বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত সোমবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ইন্ডিয়ায় চলে গেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দল প্রধানের এমন নিরব প্রস্থানে দিশেহারা অবস্থায় পড়ে যান দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীরা। বাদ যাননি ১৪ দলীয় শরীক দলের নেতারাও। তাই শরীক দলের প্রথম সারির নেতারাও দিয়েছেন গা ঢাকা।
দলের সভাপতির এমন গোপন পদত্যাগ বা দেশ ত্যাগ নিয়ে আচ করতে পারেননি অনেকেই। তাই মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে দলের প্রায় সর্ব স্তরের নেতাকর্মীদের জনরোষ থেকে বাঁচতে যেতে হয় আত্মগোপনে। তবে অনেকেই আবার দেশের পরিস্থিতি বুঝে আগেই সটকে পড়েন ভিন দেশে। সে সংখ্যাটা খুবই কম। ফলে অধিকাংশ নেতাদেরই দেশের মধ্যেই খুজে নিতে হয় গোপন আশ্রয়।
একই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে ১৪ দলের নেতাদেরও। পদত্যাগের খবর চাওর হবার পর থেকেই শরীক দলগুলোর প্রথম সারির বাম নেতাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। খোঁজ পাচ্ছেন না দলীয় নেতাকর্মীরাও। তাই অনেকটা দিশেহারা অবস্থায় পড়ে যান নিচের সারির এইসব নেতাকর্মীরাও। এর মধ্যেও যারা নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন তাদেরও থাকতে হচ্ছে আতঙ্কে।
এমন অবস্থায় দলগুলোর প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় সমাজতান্তিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন বলে জানায় একটি দলীয় সূত্র।
মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননেরও। এছাড়াও আরও একাধিক দলীয় প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি। পরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই আতঙ্কে আছেন। কারো কারো অফিসও জনরোষের মুখে পড়ে। কেন্দ্রীয় অফিস সহ জ্বালিয়ে দেয়া হয় শাখা অফিসও। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে আগুন। পাশাপাশি নেতাদের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হয়েছে ভাঙচুর ও লুটপাট। এমন অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে আছেন।
ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর সদস্য কামরুল আহসান বলেন, আমরা আসলে আতঙ্কে আছি। আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের কার্যালয়গুলোতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। রাজশাহীতে আমাদের নেতা ফজলে হোসেন বাদশার বাসভবনে হামলা হয়েছে।
দলের সভাপতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোমবার থেকে তাকে কন্ট্রাক্ট করা যাচ্ছে না। তিনি একা কোথাও গেছেন। ফোন বন্ধ। বাংলাদেশে এখন দক্ষিণপন্থার উত্থান ঘটেছে। প্রতিবিপ্লব হয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হয়েছে। এ বিষয়টি আমরা শেখ হাসিনাকে আগেই জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে একটা দূরত্ব ছিল। আমাদের কথাও শুনতেন না।
আগেই দেশ ছেড়েছেন আরেক শরীক দল গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার। তিনি বর্তমানে আমেরিকায় আছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে দলটির সাধারণ সম্পাদক ভুপেন্দ্র ভৌমিক দোলন জানান, বর্তমানে তিনি নিজ গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন।