অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং লেখক তৌকীর আহমেদ। প্রথম ছবি ‘জয়যাত্রা’ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর নির্মাণ করেছেন আরও ৬টি ছবি। তৌকির আহমেদ পরিচালিত সর্বশেষ ছবি ‘স্ফুলিঙ্গ’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে (২৬ মার্চ) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে।
তারকাদের আড্ডা নিয়ে নিয়মিত আয়োজন ‘টুনাইট শো’-এ হাজির হন এই অভিনেতা। তার নতুন ছবি ‘স্ফুলিঙ্গ’সহ ব্যক্তিজীবনের নানান বিষয় শেয়ার করেন তৌকির আহমেদ।
তৌকীর আহমেদ পরিচালিত প্রথম ছবি ‘জয়যাত্রা’র গল্প ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে। ‘ফাগুন হাওয়ায়’ তৈরি হয়েছে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। এছাড়া তিনি পরিচালনা করেছেন ‘রূপকথার গল্প’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘অজ্ঞাতনামা’ এবং ‘হালদা’। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মুক্তি পাচ্ছে তার পরিচালিত ছবি ‘স্ফুলিঙ্গ’। ছবিটি প্রসঙ্গে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ছবি বানানোর সুযোগ আসলো আর সেই সুযোগটা লুফে নিলাম। ১৯৭১ সালের তরুণরা দেশ স্বাধীনের জন্য যে ধরণের ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন এই ছবিতে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। তাদের সেই দায়িত্ব, ত্যাগ ও দেশপ্রেম আজকের তরুণদের মাঝে তুলে ধরতেই ‘স্ফুলিঙ্গ’ নির্মাণ করা হয়েছে।
ছবিটি নির্মাণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তৌকির আহমের বলেন, ‘আসলে করোনার মধ্যে হাত-পা ছড়িয়ে কাজ করার সুযোগটা ছিলো না। এজন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনাটিও অন্য ভাবেই করি। সংরক্ষিত এলাকা নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টে আমরা ইনডোর শুটিং করি। সেই সঙ্গে আউটডোর লোকেশনগুলোও কাছাকছি ছিলো বিধায় অনেক ভালো হয়েছে। লোকেশনের একদিকে শীতলক্ষা নদী আর একদিকে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে কিছু দৃশ্য আছে সেগুলোর বিকল্প সেট নির্মাণ করা যায় না। যেমন- ছবিতে ১৯৭১ সালের একটি বাসের দৃশ্য আছে। সেই বাসটি পেলাম মানিকগঞ্জে। আবার সেই গাড়ির বিভিন্ন সমস্যা থাকার কারণে আমাদের ওই কাজটি করার জন্য যেতে হলো সাভারে। এছাড়া একটি গানের দৃশ্য ধারণ করতে আমরা কসবাতে গিয়েছি। তবে আমার অন্য ছবিতে যেমন দূর-দূরতে গিয়ে কাজ করি এবার সেটা করতে পারিনি। তবুও ছবির কাজ ভালো হয়েছে।’
স্বপ্নের বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন প্রযোজিত ‘স্ফুলিঙ্গ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, শ্যামল মওলা, পরীমনি, আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, শহীদুল আলম সাচ্চু, রওনক হাসানের মতো শিল্পীরা। ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্পর্কে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘এই ছবিতে যারা অভিনয় করেছেন তারা অনেক অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় তারকা। তারা সবাই অনেক অন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন।’
ছবিটির বাজেট সম্পর্কে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘আমার ছবির বাজট খুম কম থাকে। বলতে গেলে আমার সামর্থের মধ্যে থেকে সিনেমা বানাই। এবারও তার ব্যতিক্রম ছিলো না। তাই বলে অল্প বাজেটে ছবি বানাই বলে সেটাতে যত্ন থাকবে না এমনটা নয়।’
শো-এর শেষের দিকে খানিকটা মজা করে তৌকির আহমেদ বলেন, ‘আমার একটি ফেসবুক পেজ ছিলো। সেখানে আমার বেশ ফলোয়ার ছিলো। কিন্তু পেজটি হ্যাক হয়ে যায়। সাইবার ক্রাইম টিমের মাধ্যমে সেই আমি উদ্ধারও করি। কিন্তু হ্যাকাররা পরে আবার হ্যাক করে নেয়। এতে আমি অনেক বিরক্ত হয়ে যাই। সেই থেকে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাইরে। এতে অবশ্য অনেক ভালো হয়েছে। কারণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না থাকার কারণে আমার অনেক সময় বেচে গেছে। তবে আজ একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট করেছি। আজ সেখানে একটি পোস্টে হ্যাকারদের উদ্দেশ্যে আমি বলেছি, দয়া করে আমার এই অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করবেন না। কারণ, স্ফুলিঙ্গের সমালোচনাগুলো পড়তে চাই। কেই আমার সমালোচনা করলে সেটা জানতে চাই।’