ঢাকা এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন পটুয়াখালীর এক তরুণী- গ্রেপ্তার ৩

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

রাজধানীর বাসিন্দা মনির হোসেন শুভ (২২) নামে এক তরুণের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমোতে পরিচয় হয় পটুয়াখালীর এক তরুণীর (১৮)। নিয়মিত ইমোতে কথার এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায় তারা। একে অপরের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা শুরু করেন। এরই প্রেক্ষিতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে গত শনিবার ঢাকায় নিয়ে আসে শুভ।

এরপর সে, তার বন্ধু আল-আমিন ওরফে বিল্লাল ও সবুজের ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ও পুলিশ। এদের মধ্যে রমনা বিভাগের একাধিক টিম অভিযুক্ত আল-আমিন ও সবুজকে গ্রেপ্তার করে।

 

ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহেন শাহ বিষয়টি  নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকায় বসবাসরত শুভর সঙ্গে কয়েকমাস আগে ইমো কলের মাধ্যমে পরিচয় সূত্রে প্রেম হয় ওই তরুণীর। এরপর বিয়ের প্রলোভনে ঢাকায় আসতে বলে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী থেকে শুভর ডাকে ঢাকার লালবাগ কেল্লা মোড়ে আসে। পরে শুভ মেয়েটিকে একটি বাসায় নিয়ে যায়। এর আগে কখনো সরাসরি দেখা না হলেও ভিডিও কলে একে অপরকে দেখেছে তারা।

এডিসি শাহেন শাহ্ বলেন, প্রথমদিনই শুভ তরুণীকে বাসায় নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর শুভ তার বন্ধু আল-আমিনের সঙ্গে ওই তরুণীকে পরিচয় করিয়ে দেয়। রাতে শুভর বাসায় থাকা যাবে না বলে তরুণীকে আল-আমিনের সঙ্গে তার বাসাবোর বাসায় পাঠিয়ে দেয়। সেখানে গিয়ে তরুণী দেখে সেটি একটি মেস বাসা। আল-আমিন ছাড়া আর কেউ নেই। এরপর তরুণীর মনে সন্দেহ হতে থাকলে শুভকে ফোন করে উদ্ধার করার কথা জানায়। এরমধ্যে আল-আমিন ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। পরে ওই মেসে সবুজ নামে এক যুবক আসে। সেও ধর্ষণের চেষ্টা করে, কিন্তু তরুণীর বাধায় পারেনি। আল-আমিন একাধিকবার মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে জানিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আল-আমিনের মেসে ১৩ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান অভিযুক্ত মনির হোসেন শুভ গিয়ে তরুণীকে পটুয়াখালী ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। মেয়েটি তখন বলে, কেন আমাকে বিয়ের কথা বলে ঢাকায় নিয়ে এলে। এ সময় শুভ ও আল-আমিন মেয়েটিকে মারধর করে। এরপর আল-আমিনকে দিয়ে ভুক্তভোগী তরুণীকে রিকশায় পাঠিয়ে দেয়।

টিএসসিতে এসে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আল-আমিন। পরে এক পথচারীর সহযোগিতায় ওই তরুণীকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় গতকাল রাত ১০ টা পর্যন্ত কোনো পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে লালবাগ থানায় মামলায় প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, তরুণীর বক্তব্যের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদের তাদের কথার মিল রয়েছে। এছাড়া ভিক্টিম আরও দুজনের নাম বলতে পারেনি। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *