লবিস্ট নিয়োগ করে আওয়ামী সরকার তার মরণঘাতী দুঃশাসন আড়াল করতে পারেনি :রুহুল কবির রিজভী

হাজার হাজার ডলার খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করেও আওয়ামী সরকার তার মরণঘাতী দুঃশাসনের বিভীষিকা আড়াল করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত মানবাধিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজা দেয়া হয়েছে। আইন-আদালত সরকারের কব্জায়। দেশের নিরাপত্তা বাহিনী গুম, খুন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যায় জড়িত। বিরোধী দল নিধনে নিরাপত্তা বাহিনীকে সরকার ব্যবহার করছে। বাক-স্বাধীনতা সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন যে রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে- খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং তাকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। এর অর্থ, খালেদা জিয়া সম্পর্কে অবৈধ আওয়ামী সরকারের অপপ্রচার সম্পর্কে গণতান্ত্রিক বিশ্ব বিভ্রান্ত নয়। এই মুহূর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।

মার্কিন মানবাধিকার রিপোর্টে সরকারের অত্যাচার, নিপীড়নের ঘটনা প্রমাণিত দাবি করে রিজভী বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, বাক্সভর্তি জালভোট, বিরোধী পোলিং এজেন্টদের ভয় দেখানোসহ নানা অনিয়ম ছিল ওই নির্বাচনে। পর্যবেক্ষকরা ওই নির্বাচনটিকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে স্বীকৃতি দেয়নি। সুতরাং বেগম জিয়া ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিহিংসার শিকার। গুম, খুন অপহরণ করে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে কিংবা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করেও কোনো অপকর্মই সরকার আড়াল করতে পারেনি।

মানবাধিকারের কবর রচনা করতেই নিশিরাতের সরকার দেশের আইন-আদালতকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করে ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। এমনকি তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান-যিনি রাজনীতির সাথে বিন্দুমাত্র যুক্ত নন। তার বিরুদ্ধেও অসত্য ও কাল্পনিক মামলা দায়ের করে সেটি এখনো চালু রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *