আমাদের অর্জন.কম ১ জুলাই, ২০২১ ১০:২১
ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ঘিওর ও পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তাই মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চলছে নৌকা তৈরি ও বিক্রির ধুম। ঘিওর ও দৌলতপুরের ১৫ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় নৌকার কদর বেড়েছে। এসব এলাকার মানুষ জেলার বৃহত্তম নৌকার হাট ঘিওরে ভিড় করছে নৌকা কিনতে।
ঘিওর উপজেলার চার ইউনিয়নের ২০ গ্রাম ও দৌলতপুরের দুর্গম এলাকায় বর্ষায় নৌকা ছাড়া চলাফেরা করা সম্ভব নয়। তাই এ দুই উপজেলার কাঠমিস্ত্রীরা নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের মানুষের মালামাল পরিবহন ও চলাচলের একমাত্র বাহন হিসেবে নৌকার ব্যবহার দীর্ঘ দিনের।
উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো পারাপারে পুরোদমে ব্যবহার হচ্ছে ডিঙ্গি নৌকা। ঘিওরের কারিগরদের তৈরি নৌকার চাহিদা আছে। এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হচ্ছে হরিরামপুর, শিবালয়, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে মিস্ত্রিপাড়ার নারী-পুরুষ
অন্যান্য বছরের মতো এবারও বর্ষার শুরুতেই ঘিওর উপজেলা সদরের প্রধান ঈদগাহ মাঠের নৌকা বিক্রির হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে। ঐ হাটে ক্রেতাদের জন্য থরে থরে সাজানো রয়েছে কয়েকশ নৌকা। ঘিওর বাজারের কাঠমিস্ত্রী রবি সূত্রধর, নিলকমল সূত্রধর, মাসুদ ও হারেছ জানান, বর্ষা মৌসুমে তারা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত। সপ্তাহে তাদের কারখানা থেকে ৮-১০টি নৌকা ঘিওর, দৌলতপুর, বরংগাইল, তরা ও মহাদেবপুর হাটে বিক্রি করা হয়।
বর্তমানে লোহা ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। নৌকার আকার ও প্রকারভেদে ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে লাভের অংশ আগের থেকে কমে গেছে। কাঠমিস্ত্রি সুবল দাস জানান, তিনি দাদার আমল থেকেই দেখছেন নৌকা বানানো। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার লোকজন নৌকা কিনতে আসে ঘিওরের হাটে।
এ হাটে প্রতি বুধবার শত শত নৌকা নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারি আসেন। এখানে অনেক কম দামে নৌকা বেচাকেনা হয়।