অর্ধশত মামলার বাদী ভাড়াটে মামলাবাজ, আজিজুল হক পাটোয়ারী গ্রেফতার

তিনি কখনও সাংবাদিক, কখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, কখনও নিজেকে পরিচয় দেন এমপি-মন্ত্রীর কাছের লোক হিসেবে। এসব ভুয়া পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করতে প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবিও কারসাজি করে তৈরি করেন তিনি। তারপর কখনও নিজের, কখনও অন্যের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মামলা করেন তিনি। অর্থের বিনিময়ে ভাড়ায় মামলা করাই তার মূল পেশা। দেশের বিভিন্ন আদালত এবং থানায় এভাবেই শতাধিক ভুয়া মামলা করেছেন তিনি

অবশেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দাদের (ডিবি) জালে ধরা পড়েছেন এই অভিনব প্রতারক। প্রতারকের নাম আজিজুল হক পাটোয়ারী। গ্রেফতারের পর নিজেকে তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলেও দাবি করেন তিনি। দেশের বিভিন্ন আদালত ও থানায় তিনি বাদী হয়ে প্রায় অর্ধশত মামলা দায়ের করেছেন।

 

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, অভিনব এই প্রতারকের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী। ওই মামলায় তাকে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) গ্রেফতার করা হয়েছে। সারাদেশে তার একটি মামলাবাজ সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

২০১৮ সালের ৪ আগস্ট তেজগাঁও থানায় সৈকত পালসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আজিজুল হক পাটোয়ারী। একই অভিযোগে ওই বছরের ২৭ আগস্ট রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় আরেকটি মামলা করেন পাটোয়ারী। আসামী সেই সৈকত পালসহ ৪ জন। এখানেই থামেননি তিনি। ২ দিন পরই তিনি পল্টন থানায় একটি ছিনতাইয়ের মামলা করেন। আসামি আবারও সৈকত পাল। তিন মামলায় আসামি এক হলেও থানা ভিন্ন। মনে হবে, সৈকত পাল যেন আজিজুল হক পাটোয়ারিকে মারধর ও ছিনতাইয়ের জন্য ওৎ পেতে থাকেন।

জানতে চাইলে ই-কর্মাস ব্যবসায়ী সৈকত পাল জানান, ভালোবেসে স্ত্রী লিমা সাহাকে বিয়ে করার পর থেকেই এই ভোগান্তির শুরু। আমার শ্বশুর সুরেশ সরিষার তেলের কর্ণধার সুধীর সাহার হয়ে হয়রানির উদ্দেশ্যে ভাড়ায় এই মামলাগুলো করেন আজিজুল হক পাটোয়ারী। আমি তাকে কোনো দিন নিজ চোখে দেখিনি। সবগুলো মামলা আদালতে খারিজ হয়েছে। মিথ্যা মামলা করায় আদালত ২১১ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে বলেছে।

আজিজুল হক পাটোয়ারির মামলাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, একেক সময় একেক পরিচয় এবং ঠিকানা ব্যবহার করে মামলা করেন তিনি। কখনও কোনো প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা, কখনও প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির শুভাকাঙ্ক্ষী, কখনও সাংবাদিক আবার কখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারী পরিচয়ও প্রদান করেন তিনি। আসামি ও ঘটনা ভিন্ন হলেও মামলার সাক্ষী ঘুরে ফিরে কয়েকজনই। কখনও তার ছেলে আবু ইউসুফ পাটোয়ারী, কখনও সহযোগী সোহান ও আরিফুল ইসলাম, কখনও ভগ্নীপতি সেলিম মিয়া, কখনও ছোট ভাই আলমগীর, কখনও ভাতিজা জামাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *